১ম পর্ব
গভীর রাত হঠাৎ ঘুম ভেংগে গেলো কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দে , খুব বিরক্ত নিয়ে উঠে গেলাম দেখতে কিসের শব্দ হলো! কিন্তু কোথাও কিছু না দেখে আবার এসে শুয়ে পড়লাম আর ভোরে লাফিয়ে উঠলাম সেই অদ্ভুত স্বপ্নটা দেখে, যদিও রোজই দেখি একই স্বপ্ন তবু ব্যপারটা আমার কাছে একটু বেশিই বিরক্তকর!
ক্লাসের সময় হয়ে যাচ্ছে তাই ফ্রেশ হয়ে কলেজের উদ্যেশ্যে রওনা দিলাম, ক্লাসে ঢুকতেই আফিয়ার সাথে ধাক্কা খেলাম, কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো শীতল কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেলাম!
আফিয়া আমাদের প্রফেসর স্যার এর মেয়ে দেখতে অসম্ভব সুন্দরী , যেমন লম্বা তেমনি গায়ের রঙ খুব মায়াবতী একটা মেয়ে আর অনেক বেশি শান্ত স্বভাবের! আজ অবধি তাকে কারো সাথে কথা বলতে দেখিনি, তার কোনো বান্ধুবীও নেই, একই ক্লাসে পড়া স্বত্তেও সে আমাদের কাছে বরাবরই আগন্তুক এর মতোই।
লম্বা আলখাল্লা টাইপ পোশাকে তাকে দেখতে আরোও অদ্ভুত লাগে।
প্রতিদিনের মতো আজো ক্লাসের শেষ বেঞ্চে একা বসে পড়লো। আমি বরাবরই বেয়ারা টাইপের ভাবলাম আজ ওর সাথে একটু মজা নেই। ইচ্ছে করে গিয়ে ওর গা ঘেষে বসে পড়লাম, ক্লাসের ফাকে খুব ডিস্টাব করলাম কিন্তু আফিয়া তাতে মোটেও বিরক্ত হলো না কোনো কথাও বললো না। এভাবে আমি প্রায়ই তাকে জালাতন করতাম।
একদিন আফিয়ার বাবা মানে আমাদের স্যার আমাকে ডেকে পাঠালো, ভাবলাম হয়তো আফিয়া নালিশ করেছে, স্যার আমাকে তার বাসায় যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালো, আমি খুব অবাক হলাম, রীতিমতো ভয় ও পেলাম!
পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় স্যার এর বাড়ি গেলাম।
দুতলা বাড়ি সামনে বিশাল হাসনাহেনা ফুলের বাগান গন্ধে মো মো করছে বাড়িটা। বাড়ির দরজার সামনে যেতেই নক করার আগেই দরজা খুলে গেলো। আমি ভীতরে গিয়ে আরো অবাক হলাম পুরো বাড়ি অন্ধকার আগরবাতি জালানো মিষ্টি একটা গন্ধ পাচ্ছি, এরই মধ্যে স্যার নিচে নেমে এলেন লম্বা জুব্বা পড়া মাথায় টুপি হাতে তজবি খুব সুন্দর লাগছিলো স্যারকে দেখতে। স্যার আমাকে বসতে বললেন আমি মৃদু আলোয় দেখলাম স্যার আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন
- কেমন আছো রনি?
- স্যার ভালো আছি
- তুমি কি এই শহরে একাই থাকো
- জী স্যার আমার বাবা মা গ্রামের বাড়ি থাকেন আমি এখানে একাই মেসে থাকি :)
- তোমার বয়স কতো?
- ২১ স্যার
- তুমি রোজ রাতে কি স্বপ্ন দেখো আমাকে বলবে?
- আমি স্বপ্ন দেখি আপনি কি করে জানলেন
- প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন না :)
- তেমন কোনো কিছু না
- তাহলে বলতে সমস্যা কি
- স্যার আমি দেখি খুব সুন্দরী একটা মেয়ে অনেক বিপদে পরেছে কারা যেনো মেয়েটাকে মেরে ফেলতে চায় কিন্তু মেয়েটা আমার পিছনে এসে আমার কাছে সাহায্য চায়, কিন্তু আমি কখনোই তার ফেসটা মনে রাখতে পারিনা আর এই স্বপ্নটা আমি ৩ বছর ধরে দেখছি।
- মেয়েটা কি তোমাকে কিছু বলে যে কি বিপদ তার কি সাহায্য দরকার?
- না স্যার
- আজ রাতে সে তোমাকে বলবে সব
- আপনি কি করে জানেন
- প্রশ্ন করবে না
কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক মহিলা হাতে মিষ্টির প্লেট নিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন, আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে রইলেন, মুখে হাসি খুব মায়াবী চেহারা, আমাকে বললেন নাও মিষ্টি খাও আমি মিষ্টি মুখে দিতেই মিলিয়ে গেলো, এমন মিষ্টি আমি এর আগে কখনোই খাইনি বেশ ভালো লাগলো খেতে। তারপর বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম, সারা রাস্তা চিন্তা করছিলাম এগুলো কি হচ্ছে আমার সাথে আর কেনই হচ্ছে আর স্যার আমার স্বপ্নের ব্যপার জানলো কি করে আর ঐ মেয়েটা কি চায় আমার কাছে, আজ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে আমাকে।
২য় পর্ব
রাতে খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম।
খুব চেস্টা করেও ঘুমাতে পারছিনা, রাত ২ টা বেজে গেলো ঘুম তো আসছে না। হঠাৎ একটা মিষ্টি গন্ধে আমার ঘরটা ভরে গেলো এই গন্ধটা আমি আগেও পেয়েছি কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছি না কোথায়!
অন্ধকারে আবছা আলোয় দেখলাম কালো একটা অবয়ব আমার ঘরের এক কোণা থেকে অপর কোণা ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি চোখ বন্ধ করে দোয়া পরতে শুরু করলাম, কতক্ষণ পড়লাম জানিনা.......
আমি আর আফসানা হাত ধরে ভেসে বেড়াচ্ছি হঠাৎ একজন ডানা ওয়ালা বিভৎস দেখতে দানব আকৃতির একজন এসে আমাকে প্রচন্ড জোরে মাথায় আঘাত করলো আর আফিয়াকে নিয়ে উড়ে চলে গেলো, আমি আফিয়া আফিয়া করে চিৎকার করতে চাচ্ছি কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না, এমন সময় আমার রুম মেটের ডাকে আমার ঘুম ভেঙে গেলো, উঠে দেখলাম এই শীতেও আমি ঘেমে গেছি।
তার মানে স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটা আফিয়া! কিন্তু আফিয়ার সাথে আমার কি রিলেশন আমি কেনো তাকে বাচানোর জন্য এতটা আগ্রহী! আর সেই দানবটাই বা কে কি চায়!
উফ, মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে আজ আর কলেজ গেলাম না, মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে তাই ভাবলাম গ্রাম থেকে ঘুরে আসি।
গ্রামে যেতেই শুনলাম আমার বোন অনেক অসুস্থ, মায়ের ভাষ্যমতে সে এবনরমাল আচরণ করছে, তাকে নিয়ে চিকিৎসক এর কাছে গেলাম কাজ হলো না, খুব চিন্তায় পরে গেলাম সবাই।
সেইদিন রাতে আমি আবারো আফিয়াকে স্বপ্ন দেখলাম কিন্তু এইবার দেখলাম সে খুব কষ্টে আছে আর আমার কাছে সাহায্য চাচ্ছে আর বলছে বিনিময়ে সে আমার বোনকে সুস্থ করে দিবে।
আমি শুনে বেশ অবাক হলাম আফিয়াকে স্বপ্নের মধ্যেই কথা দিলাম তাকে আমি সাহায্য করবো।
পরদিন থেকে আমার বোন আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে গেলো।
আমি ২ দিন গ্রামে থেকে মেসে ফিরে এলাম, এসেই শুনলাম প্রফেসর আমার খোজ করেছে, তাই দেরী না করে স্যার এর বাসায় গেলাম আজ আমাকে জানতেই হবে আসল রহস্য কি! কেনই বা তারা আমার পিছনে লেগেছে।
স্যার এর বাড়ি ঢুকতেই সেই গন্ধ টা পেলাম যা আমি আমি আমার মেসে মধ্যরাতে প্রায়ই পাই, সেই বয়স্ক মহিলা আমাকে দেখে মৃদু হাসলেন, বললেন
- কেমন আছো রনি
- ভালো
- তোমার বোন সুস্থ এখন?
- জী, স্যার কোথায় উনার সাথে আমার কথা ছিলো
- আমাকে কখনো কোনো প্রশ্ন করবে না আমি বাধ্য নই উত্তর দিতে।
- দেখুন আমার ভীষন প্রয়োজন
- তুমি প্রশ্ন করা ছাড়া কথা বল
- আজব আপনারা কি আমার সাথে মজা করছেন
প্রচন্ড রেগে স্যার এর বাসা থেকে বেড়িয়ে এলাম
ভাবলাম স্যার হয়তো কলেজে তাই কলেজে গেলাম কিন্তু স্যারকে সেখানেও পেলাম না।
কিন্তু আফিয়াকে দেখতে পেলাম
এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে টেনে আড়ালে নিয়ে এসে বললাম কে তুমি কি চাও প্লিজ বলো আমাকে
আফিয়া কোনো উত্তর দিলো না রক্তচক্ষু করে আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে চলে আসলো আমি তার সেই হাসি দেখে ভীষন ঘাবড়ে গেলাম।
ভাবতে লাগলাম তারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয় না কেন আর তাদের শরীর এতো শীতল কেনো তারা আগে থেকে সব জানে কি করে আর আমার স্বপ্নেই বা কেনো আসে, কি চায়!
হঠাৎ মনে হলো আমি এর সব উত্তর স্বপ্নের মাধ্যমেই পাবো
আমি এর সমাধানের পথ বের করবোই।
৩য় পর্ব
কলেজ থেকে বাসায় ফিরছি হঠাৎ দেখলাম স্যারকে, স্যারের সাথে বোরকা পড়া একজন মহিলা, মহিলাটি অনেক লম্বা আর বোরকাটা এতোটাই লম্বা যে এটাকে বোরকা না বলে আলখাল্লা বললে ঠিক হবে!
স্যারদের পিছু নেয়া শুরু করলাম
মন বলছিলো হয়তো কোনো সমাধান পেতে পারি!
স্যার আর ঐ মহিলা এক বাড়িতে ঢুকলো, বাড়িটা খুব পরিচিত মনে হলো, মনে হলো এর আগেও আমি এই বাড়িটায় এসেছি, কিন্তু আমি এর আগে এদিকটায় কোনো দিন এসেছিলাম বলে মনে পড়ছে না।
আমি বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে থাকলাম, প্রায় ১ ঘন্টা পর ঐ বাড়ি থেকে আফিয়া বেড়িয়ে এলো আমি হতবাক
এ কি করে সম্ভব, আফিয়াকে আমি কলেজে দেখে এসেছি আর এর মধ্যে এই বাড়িতে সে ঢুকলে নিশ্চই দেখতাম, কিছুই মাথায় ঢুকছে না
আফিয়াকে খুব খিশি মনে হচ্ছিলো সে দ্রুততার সাথে এগিয়ে চললো
আমি আফিয়ার পিছু নিলাম কিন্তু অবাক করা কান্ড হলো কিছু দূর যেতেই আমি তাকে হারিয়ে ফেললাম।
একরাশ ক্লান্তি নিয়ে মেসে ফিরে আসলাম, তখন প্রায় বিকেল।
আমি বিছানায় শুতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুমের মধ্যেই টের পেলাম কেউ একজন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে যার হাতের পরশ আমার খুবই পরিচিত যার গায়ের গন্ধ টাও আমি চিনি, কিন্তু সে নিশ্চুপ, আমি খুব চেস্টা করলাম তার ফেস দেখার জন্য দেখলাম ঘুমটা দেয়া এক মহিলা আমার মাথার পাশে আমি তার ঘুমটা এক টানে খুলে ফেললাম
একি এতো আমার মা
কিন্তু আমার মা যে এতোটা রুপবতী তা আজই প্রথম বুঝলাম
আমার মা কে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক লম্বা আর সুন্দরী দেখাচ্ছে, আমি হা করে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছি মা কিছু না বলে মুচকি হাসি দিয়ে আমার কপালে চুমো দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো,।
আমি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম
কি দেখলাম আর এমনটাই কেনো দেখলাম
তার মানে কি আমার মা এর সমাধান দিতে পারবে নাকি ক্লান্ততার কারনে মা কে দেখলাম
কিন্তু মা কে অন্য রকম কেনো লাগলো কিছুই ভেবে পাচ্ছিনা।
রাতে স্যার এর বাসায় আবার গেলাম
গিয়ে স্যারকে বাগানেই দেখতে পেলাম,
- কেমন আছো রনি
- ভালো
স্যার আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই
- বলো
- আপনারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন না কেনো
- আবারো প্রশ্ন :)
- আমি আমার উত্তর জানতে চাই প্লিজ স্যার আমাকে এই গোলক ধাধা থেকে বের করুন প্লিজ আপনি বলেছিলেন আমি আমার উওর স্বপ্নে পাবো কিন্তু পাইনি
- পেয়েছো রনি কিন্তু তুমি তা বুঝো নি আর ভুলে যেওনা তুমি আফিয়াকে কথা দিয়েছো তাকে সাহায্য করবে
- আমি তাকে কিভাবে সাহায্য করবো
- তুমি প্রশ্ন করলে আমি কিছুই বলতে পারবো না
স্যার বাড়ির ভেতরে চলে গেলো আমি রাতেই বাসে উঠলাম গ্রামের উদ্যেশ্যে কেনো যেনো মনে হচ্ছে আমার মা কোনো না কোনো ভাবে এই রহস্য এর সাথে জড়িত হয়তো মা ই পারবে আমাকে এর থেকে মুক্তি দিতে।
শেষ পর্ব
বাসে বসে চিন্তা করতে লাগলাম মা কে কিভাবে আমি জিজ্ঞেস করবো এসব বিষয়ে, এমনও তো হতে পারে মা এসব এর কিছুই জানেনা, অযথাই হয়তো মা কে এর মধ্যে জড়াচ্ছি।
কিন্তু পরক্ষণেই মনে পরলো আমার মায়ের বাবা মা ভাই বোন বা কোন আত্মিয় কেও আমরা দুই ভাইবোন কখনো দেখিনি আর মা তাদের সম্পকে কখনো কোনো কথাও বলেনি, আজ এই বিষয়ে প্রশ্ন করবো দেখি মা কি বলে, এমনও হতে পারে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করার জন্যই হয়তো নানা নানি নারাজ তাই আর খোজ নেয়নি।
না আর কিছু ভাবতে পারছিনা এর সমাধান আমাকে বের করতেই হবে, শুরু থেকে সব স্বপ্ন গুলি নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে ভাবলাম প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করলাম, যতোটুকু বুঝলাম আফিয়া আর তার বাবা আমাদের মতো স্বাভাবিক মানুষ নয়, আর তারা এই কলেজে এসেছে শুধুমাত্র আমার সাথে পরিচত হয়ে সাহায্যে জন্য, কিন্তু এতো মানুষ থাকতে আমি কেনো!
বাসায় যখন পৌছালাম তখন ভোর ৫ টা, বাসায় গিয়ে কাওকে কিছু বললাম না শুধু বললাম কলেজ ছুটি তাই চলে এসেছি।
ফ্রেশ হয়ে খেয়ে ঘুম দিলাম
আবারো আফিয়াকে দেখতে পেলাম এইবার সে খুব কাদছে আর আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে, কি অদ্ভুত মায়া মেয়েটার চোখে এই প্রথম তাকে আমার এতো ভালো লাগছে।
আফিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরতেই আমার পুরো শরীর শীতল হয়ে গেলো আর সে আমার কানের কাছে তার মুখ এনে বললো আমাকে বাচাও আমি মরতে চাইনা বলেই আবারো কাদতে শুরু করলো
ঘুম ভেনগে যেতেই দেখলাম মা আমার মাথার পাশে বসে আছে।
কিছু না ভেবেই মা কে বললাম মা মো: ইয়াসিন কে চিনো?
- কোন ইয়াসিন?
- প্রফেসর মো: ইয়াসিন, তার একটি মেয়েও আছে নাম আফিয়া।
মা আমার দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে থেকে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো
ওরা তোমার কাছে পৌছে গেছে!
- ওরা কারা মা কি চায় আমার কাছে :(
-ইয়াসিন একজন জ্বিন খুব খারাপ জ্বিন সে আমাকে পছন্দ করতো তার ২ জন স্ত্রী থাকা সত্তেও সে আমাকে বিয়ে করার জন্য উঠে পরে লেগেছিলো কিন্তু তোমার নানা তা হতে দেয়নি তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য তার পরিবার থেকে তাকে আলাদা করে তার কাছ থেকে তার ছেলে সন্তান কেরে নেয়, যা আমি চাইনি ইয়াসিন খুব রেগে যায় সে আমার পরিবারের সবাইকে খুন করে মানুষের সাহায্য নিয়ে কালো জাদুর মাধ্যমে।
- মা তুমি কি মানুষ?
- আমার ভালো নাম জোসেফা ইসিতিনা একজন পরী যে একজন মানুষকে ভালোবেসে বিয়ে করায় তার সব ক্ষমতা হারায় :( আমার জন্য তোমরা ভাই বোনরা বিপদে পরেছো আমি কিছুই করতে পারছিনা বলেই মা কাদতে লাগলো
- মা তুমি কি আমাকে বলতে পারো আমি কি করলে ওরা আমাদের পিছু ছেড়ে দিবে
- বাবা ওরা তোমাকে আফিয়ার সাথে বিয়ে দিয়ে আফিয়াকে দিয়ে তোমাকে খুন করিয়ে শোধ নিতে চায়
- কিন্তু মা আফিয়া নিজেই আমাকে স্বপ্নে এসে সাহায্য চায় কাদে এর মানে কি
মা কে সব খুলে বললাম স্বপ্নের কথা তারপর মা বললো
- আফিয়া হয়তো তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে আর সে তোমাকে মারতে চাচ্ছে না এর জন্য ইয়াসিন আর ওর মা মিলে মেয়েটাকে অত্যাচার করছে, সব নষ্টের গোড়া হলো ইয়াসিন এর মা উনার বুদ্ধিতেই ইয়াসিন সব করে
- ইয়াসিন স্যার এর মা এখন কোথায়
- ওর সাথেই। - তারমানে যেই বয়স্ক মহিলা উনার বাসায় থাকে
- হয়তো মা ছাড়া ওর আর কেউ বেচে নেই
- তাহলে আফিয়া কে দিয়েই কাজ উদ্ধার করবো
- কিন্তু বাবা ওরা খুবই বিপদজনক, সাবধানে এগিও, তুমি পারবে অবশ্যই!
- আফিয়ার কাছে গেলাম সে কলেজেই বসে ছিলো, প্রশ্ন না করেই সব আজ বের করবো
- আফিয়া জানো আমার মা ও তোমার মতো পরী
- তুমি কি করে জানলে আমি পরী
- আমি সবই জানি
আর এও জানি ওরা তোমাকে দিয়ে আমাকে মারাবে কিন্তু তুমি আমাকে ভালোবাসো
- তবুও মারবো
- ঠিকাছে মারো এখনি মারো যাকে ভালোবাসি তার হাতে মরতে রাজি
- তুমিও আমাকে ভালোবাসো? মিথ্যা বলো না আমি মন পরতে পারি তোমার মনে কি চলছে সবই বুঝতে পারছি তবে তুমি যা চাচ্ছো তা পারবে না ওরা অনেক ভয়ংকর অনেক :(
- আফিয়া শুনো তুমি আমাকে ওদের দুর্বল সাইড বলো, মানুষ চাইলে সব পারে, বুদ্ধিতে এরা সেরা :)
- উনার মা উনার সব
- মা কে ধংস করতে চাই আমি
- সম্ভব না উনি অনেক শক্তিশালী উনার দূর্বলতা হলাম আমি, উনি আমাকে অনেক ভালোবাসে
- তাহলে তো তুমাকে দিয়েই কাজ হবে
- কিন্তু কিভাবে
- আমি তুমাকে বিয়ে করবো
- বিয়ের পর তাহলে তোমাকে মারতে বলবে ওরা :(
- খারাপ জীনকে বদ করার উপায় আছে আর তা আমি জানি
৩ দিন পর আমি আফিয়াকে বিয়ে করলাম, বিয়ের পরই স্যার আর তার মা আমাকে মারার জন্য আফিয়ার উপর চাপ দেয়া শুরু করলো, যতটুকু বুঝলাম আফিয়া ছাড়া আমাকে মারা তাদের পক্ষে সম্ভব না কারন আফিয়ার বাবা জীন মা মানুষ ছিলো ঠিক আমার মতনই।
ঠিক তখনই মনে হলো তাহলে আফিয়া আর আমি মিলেই ইয়াসিন আর মা কে বদ করতে পারবো।
মায়ের বুদ্ধি মতো নানার মতো কৌশল অবলম্বন করে আমি আর আফিয়া মিলে ইয়াসিন আর তার মায়ের সকল শক্তির উৎস খুজে পাই তাদেরই বাড়ির সেই হাসনাহেনা গাছের গুড়িতে
একজন হুজুরের সাহায্য নিয়ে গাছটাকে বন্ধ করে দেই
এখন আর চাইলেও স্যার আর তা মা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না কারন তাদের আর কোনো শক্তিই অবশিষ্ট নেই।
পরিবার আর আফিয়াকে নিয়ে অনেক দূরে চলে আসলাম
চাইলেও তাদের পক্ষে আর আমাদের খুজে বের করা সম্ভব না কারন আফিয়া চলে আসায় স্যার এর মা ও এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে....
এখন আমরা ভালো আছি।
📒 মায়াবতীর ডায়েরি...
গভীর রাত হঠাৎ ঘুম ভেংগে গেলো কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দে , খুব বিরক্ত নিয়ে উঠে গেলাম দেখতে কিসের শব্দ হলো! কিন্তু কোথাও কিছু না দেখে আবার এসে শুয়ে পড়লাম আর ভোরে লাফিয়ে উঠলাম সেই অদ্ভুত স্বপ্নটা দেখে, যদিও রোজই দেখি একই স্বপ্ন তবু ব্যপারটা আমার কাছে একটু বেশিই বিরক্তকর!
ক্লাসের সময় হয়ে যাচ্ছে তাই ফ্রেশ হয়ে কলেজের উদ্যেশ্যে রওনা দিলাম, ক্লাসে ঢুকতেই আফিয়ার সাথে ধাক্কা খেলাম, কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো শীতল কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেলাম!
আফিয়া আমাদের প্রফেসর স্যার এর মেয়ে দেখতে অসম্ভব সুন্দরী , যেমন লম্বা তেমনি গায়ের রঙ খুব মায়াবতী একটা মেয়ে আর অনেক বেশি শান্ত স্বভাবের! আজ অবধি তাকে কারো সাথে কথা বলতে দেখিনি, তার কোনো বান্ধুবীও নেই, একই ক্লাসে পড়া স্বত্তেও সে আমাদের কাছে বরাবরই আগন্তুক এর মতোই।
লম্বা আলখাল্লা টাইপ পোশাকে তাকে দেখতে আরোও অদ্ভুত লাগে।
প্রতিদিনের মতো আজো ক্লাসের শেষ বেঞ্চে একা বসে পড়লো। আমি বরাবরই বেয়ারা টাইপের ভাবলাম আজ ওর সাথে একটু মজা নেই। ইচ্ছে করে গিয়ে ওর গা ঘেষে বসে পড়লাম, ক্লাসের ফাকে খুব ডিস্টাব করলাম কিন্তু আফিয়া তাতে মোটেও বিরক্ত হলো না কোনো কথাও বললো না। এভাবে আমি প্রায়ই তাকে জালাতন করতাম।
একদিন আফিয়ার বাবা মানে আমাদের স্যার আমাকে ডেকে পাঠালো, ভাবলাম হয়তো আফিয়া নালিশ করেছে, স্যার আমাকে তার বাসায় যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালো, আমি খুব অবাক হলাম, রীতিমতো ভয় ও পেলাম!
পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় স্যার এর বাড়ি গেলাম।
দুতলা বাড়ি সামনে বিশাল হাসনাহেনা ফুলের বাগান গন্ধে মো মো করছে বাড়িটা। বাড়ির দরজার সামনে যেতেই নক করার আগেই দরজা খুলে গেলো। আমি ভীতরে গিয়ে আরো অবাক হলাম পুরো বাড়ি অন্ধকার আগরবাতি জালানো মিষ্টি একটা গন্ধ পাচ্ছি, এরই মধ্যে স্যার নিচে নেমে এলেন লম্বা জুব্বা পড়া মাথায় টুপি হাতে তজবি খুব সুন্দর লাগছিলো স্যারকে দেখতে। স্যার আমাকে বসতে বললেন আমি মৃদু আলোয় দেখলাম স্যার আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন
- কেমন আছো রনি?
- স্যার ভালো আছি
- তুমি কি এই শহরে একাই থাকো
- জী স্যার আমার বাবা মা গ্রামের বাড়ি থাকেন আমি এখানে একাই মেসে থাকি :)
- তোমার বয়স কতো?
- ২১ স্যার
- তুমি রোজ রাতে কি স্বপ্ন দেখো আমাকে বলবে?
- আমি স্বপ্ন দেখি আপনি কি করে জানলেন
- প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন না :)
- তেমন কোনো কিছু না
- তাহলে বলতে সমস্যা কি
- স্যার আমি দেখি খুব সুন্দরী একটা মেয়ে অনেক বিপদে পরেছে কারা যেনো মেয়েটাকে মেরে ফেলতে চায় কিন্তু মেয়েটা আমার পিছনে এসে আমার কাছে সাহায্য চায়, কিন্তু আমি কখনোই তার ফেসটা মনে রাখতে পারিনা আর এই স্বপ্নটা আমি ৩ বছর ধরে দেখছি।
- মেয়েটা কি তোমাকে কিছু বলে যে কি বিপদ তার কি সাহায্য দরকার?
- না স্যার
- আজ রাতে সে তোমাকে বলবে সব
- আপনি কি করে জানেন
- প্রশ্ন করবে না
কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক মহিলা হাতে মিষ্টির প্লেট নিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন, আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে রইলেন, মুখে হাসি খুব মায়াবী চেহারা, আমাকে বললেন নাও মিষ্টি খাও আমি মিষ্টি মুখে দিতেই মিলিয়ে গেলো, এমন মিষ্টি আমি এর আগে কখনোই খাইনি বেশ ভালো লাগলো খেতে। তারপর বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম, সারা রাস্তা চিন্তা করছিলাম এগুলো কি হচ্ছে আমার সাথে আর কেনই হচ্ছে আর স্যার আমার স্বপ্নের ব্যপার জানলো কি করে আর ঐ মেয়েটা কি চায় আমার কাছে, আজ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে আমাকে।
২য় পর্ব
রাতে খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম।
খুব চেস্টা করেও ঘুমাতে পারছিনা, রাত ২ টা বেজে গেলো ঘুম তো আসছে না। হঠাৎ একটা মিষ্টি গন্ধে আমার ঘরটা ভরে গেলো এই গন্ধটা আমি আগেও পেয়েছি কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছি না কোথায়!
অন্ধকারে আবছা আলোয় দেখলাম কালো একটা অবয়ব আমার ঘরের এক কোণা থেকে অপর কোণা ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি চোখ বন্ধ করে দোয়া পরতে শুরু করলাম, কতক্ষণ পড়লাম জানিনা.......
আমি আর আফসানা হাত ধরে ভেসে বেড়াচ্ছি হঠাৎ একজন ডানা ওয়ালা বিভৎস দেখতে দানব আকৃতির একজন এসে আমাকে প্রচন্ড জোরে মাথায় আঘাত করলো আর আফিয়াকে নিয়ে উড়ে চলে গেলো, আমি আফিয়া আফিয়া করে চিৎকার করতে চাচ্ছি কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না, এমন সময় আমার রুম মেটের ডাকে আমার ঘুম ভেঙে গেলো, উঠে দেখলাম এই শীতেও আমি ঘেমে গেছি।
তার মানে স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটা আফিয়া! কিন্তু আফিয়ার সাথে আমার কি রিলেশন আমি কেনো তাকে বাচানোর জন্য এতটা আগ্রহী! আর সেই দানবটাই বা কে কি চায়!
উফ, মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে আজ আর কলেজ গেলাম না, মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে তাই ভাবলাম গ্রাম থেকে ঘুরে আসি।
গ্রামে যেতেই শুনলাম আমার বোন অনেক অসুস্থ, মায়ের ভাষ্যমতে সে এবনরমাল আচরণ করছে, তাকে নিয়ে চিকিৎসক এর কাছে গেলাম কাজ হলো না, খুব চিন্তায় পরে গেলাম সবাই।
সেইদিন রাতে আমি আবারো আফিয়াকে স্বপ্ন দেখলাম কিন্তু এইবার দেখলাম সে খুব কষ্টে আছে আর আমার কাছে সাহায্য চাচ্ছে আর বলছে বিনিময়ে সে আমার বোনকে সুস্থ করে দিবে।
আমি শুনে বেশ অবাক হলাম আফিয়াকে স্বপ্নের মধ্যেই কথা দিলাম তাকে আমি সাহায্য করবো।
পরদিন থেকে আমার বোন আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে গেলো।
আমি ২ দিন গ্রামে থেকে মেসে ফিরে এলাম, এসেই শুনলাম প্রফেসর আমার খোজ করেছে, তাই দেরী না করে স্যার এর বাসায় গেলাম আজ আমাকে জানতেই হবে আসল রহস্য কি! কেনই বা তারা আমার পিছনে লেগেছে।
স্যার এর বাড়ি ঢুকতেই সেই গন্ধ টা পেলাম যা আমি আমি আমার মেসে মধ্যরাতে প্রায়ই পাই, সেই বয়স্ক মহিলা আমাকে দেখে মৃদু হাসলেন, বললেন
- কেমন আছো রনি
- ভালো
- তোমার বোন সুস্থ এখন?
- জী, স্যার কোথায় উনার সাথে আমার কথা ছিলো
- আমাকে কখনো কোনো প্রশ্ন করবে না আমি বাধ্য নই উত্তর দিতে।
- দেখুন আমার ভীষন প্রয়োজন
- তুমি প্রশ্ন করা ছাড়া কথা বল
- আজব আপনারা কি আমার সাথে মজা করছেন
প্রচন্ড রেগে স্যার এর বাসা থেকে বেড়িয়ে এলাম
ভাবলাম স্যার হয়তো কলেজে তাই কলেজে গেলাম কিন্তু স্যারকে সেখানেও পেলাম না।
কিন্তু আফিয়াকে দেখতে পেলাম
এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে টেনে আড়ালে নিয়ে এসে বললাম কে তুমি কি চাও প্লিজ বলো আমাকে
আফিয়া কোনো উত্তর দিলো না রক্তচক্ষু করে আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে চলে আসলো আমি তার সেই হাসি দেখে ভীষন ঘাবড়ে গেলাম।
ভাবতে লাগলাম তারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয় না কেন আর তাদের শরীর এতো শীতল কেনো তারা আগে থেকে সব জানে কি করে আর আমার স্বপ্নেই বা কেনো আসে, কি চায়!
হঠাৎ মনে হলো আমি এর সব উত্তর স্বপ্নের মাধ্যমেই পাবো
আমি এর সমাধানের পথ বের করবোই।
৩য় পর্ব
কলেজ থেকে বাসায় ফিরছি হঠাৎ দেখলাম স্যারকে, স্যারের সাথে বোরকা পড়া একজন মহিলা, মহিলাটি অনেক লম্বা আর বোরকাটা এতোটাই লম্বা যে এটাকে বোরকা না বলে আলখাল্লা বললে ঠিক হবে!
স্যারদের পিছু নেয়া শুরু করলাম
মন বলছিলো হয়তো কোনো সমাধান পেতে পারি!
স্যার আর ঐ মহিলা এক বাড়িতে ঢুকলো, বাড়িটা খুব পরিচিত মনে হলো, মনে হলো এর আগেও আমি এই বাড়িটায় এসেছি, কিন্তু আমি এর আগে এদিকটায় কোনো দিন এসেছিলাম বলে মনে পড়ছে না।
আমি বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে থাকলাম, প্রায় ১ ঘন্টা পর ঐ বাড়ি থেকে আফিয়া বেড়িয়ে এলো আমি হতবাক
এ কি করে সম্ভব, আফিয়াকে আমি কলেজে দেখে এসেছি আর এর মধ্যে এই বাড়িতে সে ঢুকলে নিশ্চই দেখতাম, কিছুই মাথায় ঢুকছে না
আফিয়াকে খুব খিশি মনে হচ্ছিলো সে দ্রুততার সাথে এগিয়ে চললো
আমি আফিয়ার পিছু নিলাম কিন্তু অবাক করা কান্ড হলো কিছু দূর যেতেই আমি তাকে হারিয়ে ফেললাম।
একরাশ ক্লান্তি নিয়ে মেসে ফিরে আসলাম, তখন প্রায় বিকেল।
আমি বিছানায় শুতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুমের মধ্যেই টের পেলাম কেউ একজন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে যার হাতের পরশ আমার খুবই পরিচিত যার গায়ের গন্ধ টাও আমি চিনি, কিন্তু সে নিশ্চুপ, আমি খুব চেস্টা করলাম তার ফেস দেখার জন্য দেখলাম ঘুমটা দেয়া এক মহিলা আমার মাথার পাশে আমি তার ঘুমটা এক টানে খুলে ফেললাম
একি এতো আমার মা
কিন্তু আমার মা যে এতোটা রুপবতী তা আজই প্রথম বুঝলাম
আমার মা কে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক লম্বা আর সুন্দরী দেখাচ্ছে, আমি হা করে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছি মা কিছু না বলে মুচকি হাসি দিয়ে আমার কপালে চুমো দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো,।
আমি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম
কি দেখলাম আর এমনটাই কেনো দেখলাম
তার মানে কি আমার মা এর সমাধান দিতে পারবে নাকি ক্লান্ততার কারনে মা কে দেখলাম
কিন্তু মা কে অন্য রকম কেনো লাগলো কিছুই ভেবে পাচ্ছিনা।
রাতে স্যার এর বাসায় আবার গেলাম
গিয়ে স্যারকে বাগানেই দেখতে পেলাম,
- কেমন আছো রনি
- ভালো
স্যার আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই
- বলো
- আপনারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন না কেনো
- আবারো প্রশ্ন :)
- আমি আমার উত্তর জানতে চাই প্লিজ স্যার আমাকে এই গোলক ধাধা থেকে বের করুন প্লিজ আপনি বলেছিলেন আমি আমার উওর স্বপ্নে পাবো কিন্তু পাইনি
- পেয়েছো রনি কিন্তু তুমি তা বুঝো নি আর ভুলে যেওনা তুমি আফিয়াকে কথা দিয়েছো তাকে সাহায্য করবে
- আমি তাকে কিভাবে সাহায্য করবো
- তুমি প্রশ্ন করলে আমি কিছুই বলতে পারবো না
স্যার বাড়ির ভেতরে চলে গেলো আমি রাতেই বাসে উঠলাম গ্রামের উদ্যেশ্যে কেনো যেনো মনে হচ্ছে আমার মা কোনো না কোনো ভাবে এই রহস্য এর সাথে জড়িত হয়তো মা ই পারবে আমাকে এর থেকে মুক্তি দিতে।
শেষ পর্ব
বাসে বসে চিন্তা করতে লাগলাম মা কে কিভাবে আমি জিজ্ঞেস করবো এসব বিষয়ে, এমনও তো হতে পারে মা এসব এর কিছুই জানেনা, অযথাই হয়তো মা কে এর মধ্যে জড়াচ্ছি।
কিন্তু পরক্ষণেই মনে পরলো আমার মায়ের বাবা মা ভাই বোন বা কোন আত্মিয় কেও আমরা দুই ভাইবোন কখনো দেখিনি আর মা তাদের সম্পকে কখনো কোনো কথাও বলেনি, আজ এই বিষয়ে প্রশ্ন করবো দেখি মা কি বলে, এমনও হতে পারে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করার জন্যই হয়তো নানা নানি নারাজ তাই আর খোজ নেয়নি।
না আর কিছু ভাবতে পারছিনা এর সমাধান আমাকে বের করতেই হবে, শুরু থেকে সব স্বপ্ন গুলি নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে ভাবলাম প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করলাম, যতোটুকু বুঝলাম আফিয়া আর তার বাবা আমাদের মতো স্বাভাবিক মানুষ নয়, আর তারা এই কলেজে এসেছে শুধুমাত্র আমার সাথে পরিচত হয়ে সাহায্যে জন্য, কিন্তু এতো মানুষ থাকতে আমি কেনো!
বাসায় যখন পৌছালাম তখন ভোর ৫ টা, বাসায় গিয়ে কাওকে কিছু বললাম না শুধু বললাম কলেজ ছুটি তাই চলে এসেছি।
ফ্রেশ হয়ে খেয়ে ঘুম দিলাম
আবারো আফিয়াকে দেখতে পেলাম এইবার সে খুব কাদছে আর আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে, কি অদ্ভুত মায়া মেয়েটার চোখে এই প্রথম তাকে আমার এতো ভালো লাগছে।
আফিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরতেই আমার পুরো শরীর শীতল হয়ে গেলো আর সে আমার কানের কাছে তার মুখ এনে বললো আমাকে বাচাও আমি মরতে চাইনা বলেই আবারো কাদতে শুরু করলো
ঘুম ভেনগে যেতেই দেখলাম মা আমার মাথার পাশে বসে আছে।
কিছু না ভেবেই মা কে বললাম মা মো: ইয়াসিন কে চিনো?
- কোন ইয়াসিন?
- প্রফেসর মো: ইয়াসিন, তার একটি মেয়েও আছে নাম আফিয়া।
মা আমার দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে থেকে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো
ওরা তোমার কাছে পৌছে গেছে!
- ওরা কারা মা কি চায় আমার কাছে :(
-ইয়াসিন একজন জ্বিন খুব খারাপ জ্বিন সে আমাকে পছন্দ করতো তার ২ জন স্ত্রী থাকা সত্তেও সে আমাকে বিয়ে করার জন্য উঠে পরে লেগেছিলো কিন্তু তোমার নানা তা হতে দেয়নি তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য তার পরিবার থেকে তাকে আলাদা করে তার কাছ থেকে তার ছেলে সন্তান কেরে নেয়, যা আমি চাইনি ইয়াসিন খুব রেগে যায় সে আমার পরিবারের সবাইকে খুন করে মানুষের সাহায্য নিয়ে কালো জাদুর মাধ্যমে।
- মা তুমি কি মানুষ?
- আমার ভালো নাম জোসেফা ইসিতিনা একজন পরী যে একজন মানুষকে ভালোবেসে বিয়ে করায় তার সব ক্ষমতা হারায় :( আমার জন্য তোমরা ভাই বোনরা বিপদে পরেছো আমি কিছুই করতে পারছিনা বলেই মা কাদতে লাগলো
- মা তুমি কি আমাকে বলতে পারো আমি কি করলে ওরা আমাদের পিছু ছেড়ে দিবে
- বাবা ওরা তোমাকে আফিয়ার সাথে বিয়ে দিয়ে আফিয়াকে দিয়ে তোমাকে খুন করিয়ে শোধ নিতে চায়
- কিন্তু মা আফিয়া নিজেই আমাকে স্বপ্নে এসে সাহায্য চায় কাদে এর মানে কি
মা কে সব খুলে বললাম স্বপ্নের কথা তারপর মা বললো
- আফিয়া হয়তো তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে আর সে তোমাকে মারতে চাচ্ছে না এর জন্য ইয়াসিন আর ওর মা মিলে মেয়েটাকে অত্যাচার করছে, সব নষ্টের গোড়া হলো ইয়াসিন এর মা উনার বুদ্ধিতেই ইয়াসিন সব করে
- ইয়াসিন স্যার এর মা এখন কোথায়
- ওর সাথেই। - তারমানে যেই বয়স্ক মহিলা উনার বাসায় থাকে
- হয়তো মা ছাড়া ওর আর কেউ বেচে নেই
- তাহলে আফিয়া কে দিয়েই কাজ উদ্ধার করবো
- কিন্তু বাবা ওরা খুবই বিপদজনক, সাবধানে এগিও, তুমি পারবে অবশ্যই!
- আফিয়ার কাছে গেলাম সে কলেজেই বসে ছিলো, প্রশ্ন না করেই সব আজ বের করবো
- আফিয়া জানো আমার মা ও তোমার মতো পরী
- তুমি কি করে জানলে আমি পরী
- আমি সবই জানি
আর এও জানি ওরা তোমাকে দিয়ে আমাকে মারাবে কিন্তু তুমি আমাকে ভালোবাসো
- তবুও মারবো
- ঠিকাছে মারো এখনি মারো যাকে ভালোবাসি তার হাতে মরতে রাজি
- তুমিও আমাকে ভালোবাসো? মিথ্যা বলো না আমি মন পরতে পারি তোমার মনে কি চলছে সবই বুঝতে পারছি তবে তুমি যা চাচ্ছো তা পারবে না ওরা অনেক ভয়ংকর অনেক :(
- আফিয়া শুনো তুমি আমাকে ওদের দুর্বল সাইড বলো, মানুষ চাইলে সব পারে, বুদ্ধিতে এরা সেরা :)
- উনার মা উনার সব
- মা কে ধংস করতে চাই আমি
- সম্ভব না উনি অনেক শক্তিশালী উনার দূর্বলতা হলাম আমি, উনি আমাকে অনেক ভালোবাসে
- তাহলে তো তুমাকে দিয়েই কাজ হবে
- কিন্তু কিভাবে
- আমি তুমাকে বিয়ে করবো
- বিয়ের পর তাহলে তোমাকে মারতে বলবে ওরা :(
- খারাপ জীনকে বদ করার উপায় আছে আর তা আমি জানি
৩ দিন পর আমি আফিয়াকে বিয়ে করলাম, বিয়ের পরই স্যার আর তার মা আমাকে মারার জন্য আফিয়ার উপর চাপ দেয়া শুরু করলো, যতটুকু বুঝলাম আফিয়া ছাড়া আমাকে মারা তাদের পক্ষে সম্ভব না কারন আফিয়ার বাবা জীন মা মানুষ ছিলো ঠিক আমার মতনই।
ঠিক তখনই মনে হলো তাহলে আফিয়া আর আমি মিলেই ইয়াসিন আর মা কে বদ করতে পারবো।
মায়ের বুদ্ধি মতো নানার মতো কৌশল অবলম্বন করে আমি আর আফিয়া মিলে ইয়াসিন আর তার মায়ের সকল শক্তির উৎস খুজে পাই তাদেরই বাড়ির সেই হাসনাহেনা গাছের গুড়িতে
একজন হুজুরের সাহায্য নিয়ে গাছটাকে বন্ধ করে দেই
এখন আর চাইলেও স্যার আর তা মা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না কারন তাদের আর কোনো শক্তিই অবশিষ্ট নেই।
পরিবার আর আফিয়াকে নিয়ে অনেক দূরে চলে আসলাম
চাইলেও তাদের পক্ষে আর আমাদের খুজে বের করা সম্ভব না কারন আফিয়া চলে আসায় স্যার এর মা ও এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে....
এখন আমরা ভালো আছি।
📒 মায়াবতীর ডায়েরি...
Sign up here with your email
ConversionConversion EmoticonEmoticon