সত্য ঘটনা অবলম্বনে
অনি মেয়েটা ছিলো খুব সুন্দর। সে ছোট থেকে কুয়েতে থাকতো বাবা-মায়ের সাথে । বড় হয়ে দেশে আসে তখন তার বয়স ১৯ বছর । মেয়েটা আগে খুব হাসিখুশি ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে মেয়েটা অন্যরকম হয়ে যায়। ছেলে মানুষ দেখলেই সে নিজেকে আড়াল করে ফেলে। তার যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিলো এমনও না। ছেলেদের দেখতেই পারতো না সে। যখন আশেপাশের মানুষ বিয়ের কথা বলতো তখন অনি প্রচন্ড রেগে যেতো। তার গায়ে সে নিজেই আঘাত করা শুরু করতো। তার এই ধরণের আচরণে সবাই খুব চিন্তিত। আশেপাশের মানুষজন বলতে থাকে মেয়ে বিদেশে বড় হয়েছে তাই এমন অভদ্র আচরণ করে। অনির মা এসব কথা শুনে কান্নাকাটি করতো।
অনির বাবা কখনো অনির উপর রাগ করেনি উনি ভেবেছিলো অনি হয়তো হুট করে দেশে এসে নিজেকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না।
একদিন অনির মামা একটা বিয়ের সম্বন্ধ আনে সবকিছুই ভালো ছিলো। ছেলেপক্ষ অনিকে দেখতে আসার কথা। যেদিন দেখতে আসবে তার আগের দিন রাতে ঘুমিয়েছিলো একদম সুস্থ। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর অনিকে দেখে অনির মা চিৎকার করা শুরু করে। অনি নিজেও তার গালে ব্যাথা অনুভব করছে কিন্তু বুঝেনি। তার মায়ের কান্নাকাটি দেখে আয়না দেখতে গেলো। গিয়ে দেখে তার দুই গালে মোট ৬ টা বড় বড় আঁচড় এর দাগ। কাটা চামচ দিয়ে আঁচড় দিলে যেমন হওয়ার কথা ঠিক তেমন দাগ। তখন অনি বললো মা আমি তো কাল রাতে স্বপ্ন দেখেছিলাম কেউ একজন আমাকে মারছে। অনির মা কিছু বুঝতে না পেরে অনির দাদীকে ডাকলো। তখন অনির দাদী বিষয়টা খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়ে বললো এখন তোমরা চুপ থাকো। কেউ কোনো মন্তব্য করো না এমনটাই হওয়ার কথা ছিলো।
অনির দাদীর এমন কথা শুনে সবাই কিছুটা অবাক হলো। সেই সাথে সবাই খুবই চিন্তিত। অনির মা তো অনিকে বাচ্চাদের মতো বুকে জড়িয়ে রেখেছে ভয়ে। ঠিক এই মূহুর্তে অনির চাচী বলে বসলো, অনি মনে হয় নিজেই এই দাগ করেছে মুখে যাতে পাত্রপক্ষের সামনে যেতে না হয়।
এই কথা শুনে সবাই রাগান্বিত হলেও অনি খুব জোরে হাসছিলো। হাসিটা মোটেও স্বাভাবিক ছিলো না। সবাই খুব ভয় পাচ্ছে এখন। তখন অনির দাদী সূরা নাস আর সূরা ফালাক পড়ে অনির গায়ে ফুক দিলো। তখন অনি কিছুটা ঠিক আচরণ করলো। আর বললো তোমরা আমার সাথে এমন করছো কেন? আমি তোমাদের সাথে থাকার জন্য দেশে এসেছি আর তোমরা আমাকে নিয়ে এতো হাসাহাসি করো আমি আর থাকবো না।
সেদিন সন্ধ্যায় বাসায় হুজুর ডাকলো অনির দাদী। হুজুর এসে বললো এটা তো নতুন কিছু না আপনাদের বংশের প্রতিটা মেয়ের সাথেই এমন হয়েছে এর আগে। তখন অনির দাদী ইশারা দিয়ে বললো কিছু না বলতে। সেদিন হুজুর সবকিছু জেনে তারপর চলে গেলো। বললো ২ দিন পর আসবে।
হুজুর যাওয়ার পর অনি ওয়াশরুমে গেলো। ১ ঘন্টা হয়ে যায় অনি বের হয় না। ভেতর থেকে কোনো পানির শব্দ ও আসে না। অনির মা তখন ভেবেছিলো অনি হয়তো রাগ করে বের হচ্ছে না। কিন্তু যখন এই ১ ঘন্টা ৩ ঘন্টায় গিয়ে পৌছায় তখন অনির মা কান্নাকাটি শুরু করে। আর সবাইকে ফোন দেওয়া শুরু করে। অনির বাবা অনেক দূরে ছিলো তাই আসতে পারবে না। আসতে হলেও ৪/৫ ঘন্টা লাগবে। অনির মা ফোন দিলো অনির মামাকে, উনিও ব্যাস্ত। উনি উনার এক ছেলে কে পাঠিয়েছেন। ছেলেটা আসতে আসতে অনেক সময় পার হয়ে গেলো। তখন ৭ ঘন্টা হয় অনি ওয়াশরুমে। আর কোনো উপায় না পেয়ে এলাকার আরও কয়েকজন মানুষ ডেকে ওয়াশরুমের দরজা ভাঙে। আর দরজা ভাঙার পর অনির মা দৌঁড়ে ভেতরে ঢুকে অনিকে দেখার জন্য। আর দেখার সাথে সাথেই উনি সেন্সলেস হয়ে যায়।
২ পর্ব
ওয়াশরুমের মেঝেতে অনি রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে। অনির এই অবস্থা দেখেই অনির মা সেন্সলেস হয়ে গেছে। এখন দু'জন মানুষ একসাথে এই অবস্থা নিয়ে সবাই খুব ঝামেলায় পড়ে গেলো। অনির মায়ের মাথায় পানি দেওয়ার পর উনার সেন্স এসেছে। উনি আবার সেই কান্না শুরু করে দেয়। অনির শরীরে হাত বুলাতে বুলাতে কান্নাকাটি করতে থাকে। অনির প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পায়জামা সম্পূর্ণ ভিজে গেছে। অনির মা ছেলেদের কে বাহিরে যাওয়ার জন্য ইশারা দিলো আর বললো হাসপাতালে নেওয়ার ব্যাবস্থা করতে। তারপর অনিকে হাসপাতালে নেওয়া হলো।
ডাক্তার কিছু বলতে পারছে না এই ব্যাপারে। ডাক্তার বারবার জিজ্ঞেস করছে আপনারা কি কিছু গোপন করছেন? মানে ধর্ষন হয়েছে এই ব্যাপারটা কি গোপন করতে চাচ্ছেন? অনির মা বললো গোপন করতে হলে তো আর হাসপাতালে নিয়ে আসতাম না। কিছু জানি না কি থেকে কি হয়েছে। অনিকে জিজ্ঞেস করার পর অনি খুব রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে থাকে, কোনো উত্তর দেয়না। ডাক্তার ধরে নিলো অনির মানসিক সমস্যা। মানসিক সমস্যা থেকেই অনি উল্টাপাল্টা কিছু করেছে তাই রক্তক্ষরণ হয়েছে। ডাক্তার আবার জিজ্ঞেস করলো অনির পিরিয়ড হলে কি এমন ঢালাওভাবে রক্ত যায় কিনা। অনির মা বললো, না এমন তো শুনিনি। অনির সমস্যাটা বেশ জটিল। ডাক্তাররাও কোনো সঠিক সমাধান দিতে পারেনি শুধু রক্তের ঘাটতি যেনো না পড়ে তাই শুধু রক্ত ভরতে দিয়েছিলো।
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তারা আবার কুয়েতে ফিরে যাবে। সেখানে গিয়েই অনির চিকিৎসা করাবে। কিন্তু অনির দাদী যেতে দেয়না। উনি বলে চলে গিয়ে এর সমাধান হবে না তোমরা দেশেই থাকো। অনির দাদী হুজুর,কবিরাজ এসবের পরামর্শ দিলেও অনির বাবা এসবে বিশ্বাস করেনা। উনি সব বড় বড় ডাক্তারের কাছে অনিকে নিয়ে যাচ্ছে সবাই বলছে অনি তো সুস্থ আছে। সবকিছু টেস্ট করিয়েও কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। সাইকোলজিস্ট বলেছে অনি কোনোকিছু নিয়ে আতঙ্কে থাকে এবং সেটা সে কাউকে বলতে পারেনা। এটা তো সত্যিই অনি যে সবসময় আতঙ্কে থাকে। অনির বাবা-মা অনেক জিজ্ঞেস করলো অনি কি দেখে ভয় পায়। কিন্তু অনি কিছুই বলেনা অনি শুধু কাঁদে। একদিন তার মা খুব জোর দিয়ে ধরলে অনি চিৎকার করে বলে ফেলে মেরে ফেলবে তোমাদেরকে, আমাকেও মেরে ফেলবে খারাপটা। তোমরা আমাকে এসব জিজ্ঞেস করো না। সেদিন বাসায় হুজুর এসেছিলো তাই আমার কতো শাস্তি পেতে হয়েছে তোমরা দেখো নি? তবুও কেন আমার সাথে এমন করছো? আমাকে তো মরতেও দিবে না ও। অনির মা চুপ হয়ে গেছে আর কিছু বলতে পারছে না। অনির মায়ের মনে প্রশ্ন হলো এই "ও" টা কে? কিন্তু এটা আর অনিকে জিজ্ঞেস করেনি ভয়ে।
কয়েকদিন ধরে অনির একটা বিষয় খেয়াল করছে সেটা হলো অনি আশেপাশে দেখেই ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। আর ১ ঘন্টা ২ ঘন্টার মধ্যে তো বের হওয়ার নামই নেয়না। খুব ডাকাডাকির পর বের হয়ে এসেই মরার মতো ঘুমায়। সব মিলিয়ে একটা বদ্ধ পাগলের মতো আচরণ করে অনি। অনির পরিবারের জন্য এটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।
অনির দাদী বারবার বলেই যাচ্ছে হুজুরের কথা মেনে চলতে সেদিকে কেউ পাত্তাই দেয়না। অনির দাদীর কথা মেনে অনির মা হুজুরের কাছে গেলো। যাওয়ার পর হুজুর বললো মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে খুব শীঘ্রই বিয়ে দিতে হবে যেভাবেই হোক। অনির উপর জ্বীনের বদনজর আছে। এই জ্বীন খুব খারাপ। নিয়মিত অনির সাথে সহবাস করে এই জ্বীন। এইজন্যই মেয়ে এমন করে। এরকম চলতে থাকলে মেয়েটা মরে যাবে। বিয়েতে অনেক বাধা আসবে কিন্তু তবুও বিয়ে দিতে হবে।
তখন অনির মা বললো বিয়ে কিভাবে দিবো দেখতে আসার নাম শুনলেই তো আমার মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু করে। এভাবে কি বিয়ে দেওয়া যাবে? এসব জেনে তো কেউ বিয়ে করতে রাজি হবে না।
হুজুর বললো আল্লাহ্ যাকে অনির জন্য মিলিয়ে রেখেছে সে ঠিকই রাজি হবে আপনারা বলেই দেখুন। কারো কাছে সত্য গোপন করতে চাইয়েন না।
বাসায় এসে অনির মা কথাগুলো অনির বাবার কাছে বললো। অবিশ্বাস করার কোনো উপায় নেই। কারণ অনির আচরণের সাথে হুজুরের প্রতিটি কথা মিলেছে। তবুও অনির বাবা বললো আমি ডাক্তারের সাথে একটু কথা বলে নেই। তখন উনি ডাক্তারের সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করার পর ডাক্তার ও বললো বিয়ে দিয়ে দিন। আর হুজুর যে পরামর্শ দেয় সেটা মানুন। তবে জ্বীন তাড়ানোর নাম করে মেয়ের গায়ে যেনো আঘাত না করে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
সেই জ্বীন হয়তো টের পেয়েছে অনির বিয়ের কথা চলছে। আবার অনির উপর অত্যাচার শুরু করেছে। অনির শরীরে শুধু আঘাতের চিহ্ন। আগে তো ওয়াশরুমে নিয়ে সহবাস করতো। কিন্তু এখন আর তা করে না। এখন রুমের মধ্যেই অত্যাচার করে। সবাই অনির চিৎকার শুনে অনির অবস্থাটা দেখে কিন্তু অনির সাথে কি হচ্ছে সেটা কেউ দেখতে পারে না। এই অবস্থায় অনির বাবা-মা শুধু চোখের পানি ফেলে,এছাড়া আর কি করার আছে!
যেখানে বিয়ের কথা চলছে সেই ছেলের (নাফি) সাথে অনির বাবা কথা বললো। সব সমস্যার কথা খুলে বললো।
নাফি বললো আমাকে দুইদিন সময় দিন আমি ভেবে জানাবো। এসব কথা শুনলে আমার বাবা-মা তো রাজি হবেনা। তবুও আমি একটু ভেবে দেখি আপনি টেনশন করবেন না।
শেষ পর্ব
৪ দিন পর নাফি ফোন দিয়ে বললো সে বিয়ে করতে রাজি তবে অনির ব্যাপারে অন্যকেউ যেনো না জানে। মানে নাফি তার পরিবারের কাছে গোপন রাখতে চাচ্ছে এই বিষয়টা। সবাই সহজভাবে নিবে না আর এটা কোনো সহজ ব্যাপার ও না। নাফির কথা শুনে অনির বাবা-মা ভরসা পেলো। তারা খুব খুশি হলো। অনির মা বলেছিলো বাবা সারাজীবন তোমার সবকিছুর দায়িত্ব আমার। তখন নাফি বলেছিলো শুধু দোয়া করার দায়িত্ব নিতে পারেন,অন্যকিছুর নয়। নাফির প্রতিটা কথাতেই অনির বাবা-মা ভরসা খুঁজে পাচ্ছিলো।
অনির বিয়ে অথচ অনির সামনে এটা কেউ উচ্চারণ ও করেনা। গোপনে গোপনেই সব ব্যাবস্থা করা হচ্ছিলো। নাফির পরিবার ঘরোয়া ভাবে বিয়ে করাবে না তারা অনুষ্ঠান করেই বিয়ে করাবে। তাই অনির পরিবার কিছুটা বিপদের মধ্যেই আছে। অনির সাথে কথা বলতে চাইলো নাফি। সবাই অনুমতি দিলো কথা বলার জন্য। দেওয়টাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু অনি তো সহ্যই করতে পারে না কোনো ছেলে তার সাথে কথা বলবে। কথা বলতে রাজি হয়নি অনি। নাফি যেহেতু অনির সমস্যাটা জানে তাই আর নাফি জোর করেনি।
বিয়ের দুইদিন আগে অনি আবারও অসুস্থ হয়ে গেলো। সেই সেদিনের মতো রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অথচ সবাই অনেক সাবধানে ছিলো। বিয়ের ব্যাপারে কোনো কথা অনির সামনে বলেনি। অনির সামনে বলা আর জ্বীনকে বলা তো একই কথা। অনিকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলো। নাফির মা ফোন দিয়ে বললো গায়ে হলুদে আমাদের এখান থেকে ২০ জন যাবে আপনাদের ওখানে। এই কথা শুনে অনির মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। তারা যদি গায়ে হলুদেও আসে তাহলে অবশ্যই গায়ে হলুদের ও অনুষ্ঠান করতে হবে। অনির মা নাফি কে ফোন দিয়ে বললো এখন কি করা যায়। নাফি বললো আমি তো আমার সাধ্যমত চেষ্টা করছি সবকিছু যেনো ঠিকঠাক মতো হয়। কিন্তু পরিবারের বড় ছেলের বিয়ে সবাই তো আশা নিয়ে আছে তাই কিছু বলতে পারছি না আমি।
অনির মা কাঁদতে কাঁদতে তার ভাই কে বললো ভাই তুমি যদি বিয়ের আলাপ শুরু না করতা তাহলে আমার মেয়েটা মনে হয় ভালো থাকতো। আমার মেয়েকে কেউ করুনা করে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে এরচেয়ে বড় কষ্ট আর কি হতে পারে! তখন উনার ভাই ও চোখের পানি ফেলে বললেন আমাদের উপর এমন গজব কেন শুরু হলো আল্লাহ্ জানেন। যদি জানতাম এমন হবে তাহলে কোনোদিন দেশেই আসতে দিতাম না। অনির বাবা বলে ফেললো এত কষ্ট পাওয়ার চেয়ে মরে যাক আমার মেয়ে তবুও ভালো। এই দুনিয়ায় আমিই মনে হয় প্রথম বাবা যে কিনা নিজের মেয়ের মৃত্যু কামনা করছি। কোনো সমাধানই পাইনা কোথায় যাবো আমার মেয়েকে নিয়ে।
তখন অনির দাদী বললো তোরা চুপ থাক আমি দেখছি কি করা যায়। আমার কথা শুনলে এতদিনে অনি সুস্থ থাকতো। অনি কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বাসায় নেওয়ার পর হুজুর আনলো কবিরাজ ও আনলো। হুজুর জ্বীন হাজির করলো। তখন জ্বীনকে প্রশ্ন করলো তুমি কি চাও? সে উত্তর দিলো আমি অনিকে বিয়ে করতে চাই তাকে আমার ভালো লাগে। হুজুর বললো তুমি জ্বীন,সে মানুষ বিয়ে কিভাবে হবে? সে উত্তর দিলো বিয়ে না হোক আমি সবসময় তার সাথেই থাকবো। হুজুর জিজ্ঞেস করলো তুমি তাকেই কেন পছন্দ করলে? আর তাকে তুমি কোথায় পেলে? জ্বীন বলে তার চুল আমার খুব ভালো লেগেছে আত তার নীল ওরনা খুব ভালো লেগেছে আমার। আমি কোথায় পেয়েছি এটা বলবো না আমি তার সাথেই থাকবো। হুজুর বললো আচ্ছা তার সাথেই থাকো কিন্তু তাকে আঘাত করো কেন? জ্বীন উত্তর দিলো আমি তার বিয়ে হতে দিবো না তাই আঘাত করি। আমি মেরে ফেলবো তাকে। হুজুর বলে মারাচ্ছি তোকে দাঁড়া। তখন হুজুর কি কি যেনো করলো, করার পর জ্বীন অনেক জোরে চিৎকার করছিলো আর মাফ চাচ্ছিলো। হুজুর বললো তুই চলে যা। সে বললো চলে যাবো আর শাস্তি দিস না আর শাস্তি দিস না। হুজুর বললো সত্যিই যাবি তো? সে বললো হ্যাঁ চলে যাচ্ছি আমি।
তুই যে যাবি তার প্রমাণ কি? তুই যাওয়ার সময় ওই বড় গাছের ঢালটা ভেঙে যাবি তাহলে বুঝবো তুই চলে গেছিস।
তারপর জ্বীন যাওয়ার সময় ওই গাছের ঢাল ভেঙে দিয়ে গেলো।
তারপরেই অনি সেন্সলেস হয়ে গেলো। হুজুর বললো চিন্তার কোনো কারণ নেই এখন মাথায় তেল-পানি দেন একটু ঘুমাক। তারপর আপনারা বিয়ের আয়োজন করুন আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হবেনা আমার। আমি বাড়ি বন্দী করে দিচ্ছি। আর আপনারা সবসময় আয়তুল কূরসী পাঠ করবেন। বিয়েতে লাল,নীল শাড়ি পরাবেন না।
অবশেষে অনির বিয়ে হলো গোলাপি রঙ এর শাড়ি পরে। অনির বিয়েতে অনির কাজিনরা আসতে ভয় পাচ্ছিলো। যদি জ্বীনটা তাদের উপর ভর করে এই ভয়ে অনেকেই আসেনি। এতে অনি খুব কষ্ট পেয়েছিলো। বিয়ে বাড়ির সবাই খুশি থাকলেও ভয়ে ভয়েই ছিলো কখন কি হয়ে যায়। অনির কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিয়ের দিন হঠাৎ করেই অনির ভাই রিফাত অদ্ভুৎ আচরণ শুরু করলো। কেমন ঘাড় বাঁকা করে হাটছিলো কেমন চিৎকার করছিলো। অনির বাবা রিফাতকে একটা রুমের ভেতর রেখে দরজা বন্ধ করে দেয় যাতে বিয়েতে কোনো বাধা না আসে। অনি বারবার শুধু রিফাতকেই খুঁজছিলো। বিদায়ের সময় ও অনি রিফাতকে খুঁজছিলো আর অনির বাবা শুধু মিথ্যা বলছিলো যে রিফাতকে একটা কাজে পাঠিয়েছি। এভাবেই মিথ্যা বুঝ দিয়ে অনিকে বরের গাড়িতে উঠিয়ে দিলো। বিদায় বেলা কষ্টের হলেও অনির পরিবারের জন্য এটা ছিলো সবচেয়ে আনন্দের মূহুর্ত।
..................................................................................
অনির বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩ বছর হয়ে গেছে এখন তারা খুব সুখে আছে। অনির একটা ছেলে ও হয়েছে। নাফি সাহস করে বিয়ে করে ভুল করেনি। অনিকে নিয়ে নাফি খুব সুখেই আছে। এতোকিছু ঘটে গেলো নাফির পরিবার আজ পর্যন্ত কিছুই জানেনা। আর অনির বিয়ের পর থেকেই রিফাত আর স্বাভাবিক আচরণ করে না। কারো সাথেই ঠিকঠাক মতো কথা বলেনা। ছেলেটা যখন খায় তখন একটানা তাকিয়ে থেকেই ওকে মুখে খাবার দিতে দেখিনা। শুধু দেখি খাবার নাড়াচাড়া করছে। কিন্তু খাবার ঠিকই শেষ হয়ে যায়। এই বিষয়টা সবাই খেয়াল করে।
📒 মায়াবতীর ডায়েরি...
অনি মেয়েটা ছিলো খুব সুন্দর। সে ছোট থেকে কুয়েতে থাকতো বাবা-মায়ের সাথে । বড় হয়ে দেশে আসে তখন তার বয়স ১৯ বছর । মেয়েটা আগে খুব হাসিখুশি ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে মেয়েটা অন্যরকম হয়ে যায়। ছেলে মানুষ দেখলেই সে নিজেকে আড়াল করে ফেলে। তার যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিলো এমনও না। ছেলেদের দেখতেই পারতো না সে। যখন আশেপাশের মানুষ বিয়ের কথা বলতো তখন অনি প্রচন্ড রেগে যেতো। তার গায়ে সে নিজেই আঘাত করা শুরু করতো। তার এই ধরণের আচরণে সবাই খুব চিন্তিত। আশেপাশের মানুষজন বলতে থাকে মেয়ে বিদেশে বড় হয়েছে তাই এমন অভদ্র আচরণ করে। অনির মা এসব কথা শুনে কান্নাকাটি করতো।
অনির বাবা কখনো অনির উপর রাগ করেনি উনি ভেবেছিলো অনি হয়তো হুট করে দেশে এসে নিজেকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না।
একদিন অনির মামা একটা বিয়ের সম্বন্ধ আনে সবকিছুই ভালো ছিলো। ছেলেপক্ষ অনিকে দেখতে আসার কথা। যেদিন দেখতে আসবে তার আগের দিন রাতে ঘুমিয়েছিলো একদম সুস্থ। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর অনিকে দেখে অনির মা চিৎকার করা শুরু করে। অনি নিজেও তার গালে ব্যাথা অনুভব করছে কিন্তু বুঝেনি। তার মায়ের কান্নাকাটি দেখে আয়না দেখতে গেলো। গিয়ে দেখে তার দুই গালে মোট ৬ টা বড় বড় আঁচড় এর দাগ। কাটা চামচ দিয়ে আঁচড় দিলে যেমন হওয়ার কথা ঠিক তেমন দাগ। তখন অনি বললো মা আমি তো কাল রাতে স্বপ্ন দেখেছিলাম কেউ একজন আমাকে মারছে। অনির মা কিছু বুঝতে না পেরে অনির দাদীকে ডাকলো। তখন অনির দাদী বিষয়টা খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়ে বললো এখন তোমরা চুপ থাকো। কেউ কোনো মন্তব্য করো না এমনটাই হওয়ার কথা ছিলো।
অনির দাদীর এমন কথা শুনে সবাই কিছুটা অবাক হলো। সেই সাথে সবাই খুবই চিন্তিত। অনির মা তো অনিকে বাচ্চাদের মতো বুকে জড়িয়ে রেখেছে ভয়ে। ঠিক এই মূহুর্তে অনির চাচী বলে বসলো, অনি মনে হয় নিজেই এই দাগ করেছে মুখে যাতে পাত্রপক্ষের সামনে যেতে না হয়।
এই কথা শুনে সবাই রাগান্বিত হলেও অনি খুব জোরে হাসছিলো। হাসিটা মোটেও স্বাভাবিক ছিলো না। সবাই খুব ভয় পাচ্ছে এখন। তখন অনির দাদী সূরা নাস আর সূরা ফালাক পড়ে অনির গায়ে ফুক দিলো। তখন অনি কিছুটা ঠিক আচরণ করলো। আর বললো তোমরা আমার সাথে এমন করছো কেন? আমি তোমাদের সাথে থাকার জন্য দেশে এসেছি আর তোমরা আমাকে নিয়ে এতো হাসাহাসি করো আমি আর থাকবো না।
সেদিন সন্ধ্যায় বাসায় হুজুর ডাকলো অনির দাদী। হুজুর এসে বললো এটা তো নতুন কিছু না আপনাদের বংশের প্রতিটা মেয়ের সাথেই এমন হয়েছে এর আগে। তখন অনির দাদী ইশারা দিয়ে বললো কিছু না বলতে। সেদিন হুজুর সবকিছু জেনে তারপর চলে গেলো। বললো ২ দিন পর আসবে।
হুজুর যাওয়ার পর অনি ওয়াশরুমে গেলো। ১ ঘন্টা হয়ে যায় অনি বের হয় না। ভেতর থেকে কোনো পানির শব্দ ও আসে না। অনির মা তখন ভেবেছিলো অনি হয়তো রাগ করে বের হচ্ছে না। কিন্তু যখন এই ১ ঘন্টা ৩ ঘন্টায় গিয়ে পৌছায় তখন অনির মা কান্নাকাটি শুরু করে। আর সবাইকে ফোন দেওয়া শুরু করে। অনির বাবা অনেক দূরে ছিলো তাই আসতে পারবে না। আসতে হলেও ৪/৫ ঘন্টা লাগবে। অনির মা ফোন দিলো অনির মামাকে, উনিও ব্যাস্ত। উনি উনার এক ছেলে কে পাঠিয়েছেন। ছেলেটা আসতে আসতে অনেক সময় পার হয়ে গেলো। তখন ৭ ঘন্টা হয় অনি ওয়াশরুমে। আর কোনো উপায় না পেয়ে এলাকার আরও কয়েকজন মানুষ ডেকে ওয়াশরুমের দরজা ভাঙে। আর দরজা ভাঙার পর অনির মা দৌঁড়ে ভেতরে ঢুকে অনিকে দেখার জন্য। আর দেখার সাথে সাথেই উনি সেন্সলেস হয়ে যায়।
২ পর্ব
ওয়াশরুমের মেঝেতে অনি রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে। অনির এই অবস্থা দেখেই অনির মা সেন্সলেস হয়ে গেছে। এখন দু'জন মানুষ একসাথে এই অবস্থা নিয়ে সবাই খুব ঝামেলায় পড়ে গেলো। অনির মায়ের মাথায় পানি দেওয়ার পর উনার সেন্স এসেছে। উনি আবার সেই কান্না শুরু করে দেয়। অনির শরীরে হাত বুলাতে বুলাতে কান্নাকাটি করতে থাকে। অনির প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পায়জামা সম্পূর্ণ ভিজে গেছে। অনির মা ছেলেদের কে বাহিরে যাওয়ার জন্য ইশারা দিলো আর বললো হাসপাতালে নেওয়ার ব্যাবস্থা করতে। তারপর অনিকে হাসপাতালে নেওয়া হলো।
ডাক্তার কিছু বলতে পারছে না এই ব্যাপারে। ডাক্তার বারবার জিজ্ঞেস করছে আপনারা কি কিছু গোপন করছেন? মানে ধর্ষন হয়েছে এই ব্যাপারটা কি গোপন করতে চাচ্ছেন? অনির মা বললো গোপন করতে হলে তো আর হাসপাতালে নিয়ে আসতাম না। কিছু জানি না কি থেকে কি হয়েছে। অনিকে জিজ্ঞেস করার পর অনি খুব রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে থাকে, কোনো উত্তর দেয়না। ডাক্তার ধরে নিলো অনির মানসিক সমস্যা। মানসিক সমস্যা থেকেই অনি উল্টাপাল্টা কিছু করেছে তাই রক্তক্ষরণ হয়েছে। ডাক্তার আবার জিজ্ঞেস করলো অনির পিরিয়ড হলে কি এমন ঢালাওভাবে রক্ত যায় কিনা। অনির মা বললো, না এমন তো শুনিনি। অনির সমস্যাটা বেশ জটিল। ডাক্তাররাও কোনো সঠিক সমাধান দিতে পারেনি শুধু রক্তের ঘাটতি যেনো না পড়ে তাই শুধু রক্ত ভরতে দিয়েছিলো।
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তারা আবার কুয়েতে ফিরে যাবে। সেখানে গিয়েই অনির চিকিৎসা করাবে। কিন্তু অনির দাদী যেতে দেয়না। উনি বলে চলে গিয়ে এর সমাধান হবে না তোমরা দেশেই থাকো। অনির দাদী হুজুর,কবিরাজ এসবের পরামর্শ দিলেও অনির বাবা এসবে বিশ্বাস করেনা। উনি সব বড় বড় ডাক্তারের কাছে অনিকে নিয়ে যাচ্ছে সবাই বলছে অনি তো সুস্থ আছে। সবকিছু টেস্ট করিয়েও কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। সাইকোলজিস্ট বলেছে অনি কোনোকিছু নিয়ে আতঙ্কে থাকে এবং সেটা সে কাউকে বলতে পারেনা। এটা তো সত্যিই অনি যে সবসময় আতঙ্কে থাকে। অনির বাবা-মা অনেক জিজ্ঞেস করলো অনি কি দেখে ভয় পায়। কিন্তু অনি কিছুই বলেনা অনি শুধু কাঁদে। একদিন তার মা খুব জোর দিয়ে ধরলে অনি চিৎকার করে বলে ফেলে মেরে ফেলবে তোমাদেরকে, আমাকেও মেরে ফেলবে খারাপটা। তোমরা আমাকে এসব জিজ্ঞেস করো না। সেদিন বাসায় হুজুর এসেছিলো তাই আমার কতো শাস্তি পেতে হয়েছে তোমরা দেখো নি? তবুও কেন আমার সাথে এমন করছো? আমাকে তো মরতেও দিবে না ও। অনির মা চুপ হয়ে গেছে আর কিছু বলতে পারছে না। অনির মায়ের মনে প্রশ্ন হলো এই "ও" টা কে? কিন্তু এটা আর অনিকে জিজ্ঞেস করেনি ভয়ে।
কয়েকদিন ধরে অনির একটা বিষয় খেয়াল করছে সেটা হলো অনি আশেপাশে দেখেই ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। আর ১ ঘন্টা ২ ঘন্টার মধ্যে তো বের হওয়ার নামই নেয়না। খুব ডাকাডাকির পর বের হয়ে এসেই মরার মতো ঘুমায়। সব মিলিয়ে একটা বদ্ধ পাগলের মতো আচরণ করে অনি। অনির পরিবারের জন্য এটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।
অনির দাদী বারবার বলেই যাচ্ছে হুজুরের কথা মেনে চলতে সেদিকে কেউ পাত্তাই দেয়না। অনির দাদীর কথা মেনে অনির মা হুজুরের কাছে গেলো। যাওয়ার পর হুজুর বললো মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে খুব শীঘ্রই বিয়ে দিতে হবে যেভাবেই হোক। অনির উপর জ্বীনের বদনজর আছে। এই জ্বীন খুব খারাপ। নিয়মিত অনির সাথে সহবাস করে এই জ্বীন। এইজন্যই মেয়ে এমন করে। এরকম চলতে থাকলে মেয়েটা মরে যাবে। বিয়েতে অনেক বাধা আসবে কিন্তু তবুও বিয়ে দিতে হবে।
তখন অনির মা বললো বিয়ে কিভাবে দিবো দেখতে আসার নাম শুনলেই তো আমার মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু করে। এভাবে কি বিয়ে দেওয়া যাবে? এসব জেনে তো কেউ বিয়ে করতে রাজি হবে না।
হুজুর বললো আল্লাহ্ যাকে অনির জন্য মিলিয়ে রেখেছে সে ঠিকই রাজি হবে আপনারা বলেই দেখুন। কারো কাছে সত্য গোপন করতে চাইয়েন না।
বাসায় এসে অনির মা কথাগুলো অনির বাবার কাছে বললো। অবিশ্বাস করার কোনো উপায় নেই। কারণ অনির আচরণের সাথে হুজুরের প্রতিটি কথা মিলেছে। তবুও অনির বাবা বললো আমি ডাক্তারের সাথে একটু কথা বলে নেই। তখন উনি ডাক্তারের সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করার পর ডাক্তার ও বললো বিয়ে দিয়ে দিন। আর হুজুর যে পরামর্শ দেয় সেটা মানুন। তবে জ্বীন তাড়ানোর নাম করে মেয়ের গায়ে যেনো আঘাত না করে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
সেই জ্বীন হয়তো টের পেয়েছে অনির বিয়ের কথা চলছে। আবার অনির উপর অত্যাচার শুরু করেছে। অনির শরীরে শুধু আঘাতের চিহ্ন। আগে তো ওয়াশরুমে নিয়ে সহবাস করতো। কিন্তু এখন আর তা করে না। এখন রুমের মধ্যেই অত্যাচার করে। সবাই অনির চিৎকার শুনে অনির অবস্থাটা দেখে কিন্তু অনির সাথে কি হচ্ছে সেটা কেউ দেখতে পারে না। এই অবস্থায় অনির বাবা-মা শুধু চোখের পানি ফেলে,এছাড়া আর কি করার আছে!
যেখানে বিয়ের কথা চলছে সেই ছেলের (নাফি) সাথে অনির বাবা কথা বললো। সব সমস্যার কথা খুলে বললো।
নাফি বললো আমাকে দুইদিন সময় দিন আমি ভেবে জানাবো। এসব কথা শুনলে আমার বাবা-মা তো রাজি হবেনা। তবুও আমি একটু ভেবে দেখি আপনি টেনশন করবেন না।
শেষ পর্ব
৪ দিন পর নাফি ফোন দিয়ে বললো সে বিয়ে করতে রাজি তবে অনির ব্যাপারে অন্যকেউ যেনো না জানে। মানে নাফি তার পরিবারের কাছে গোপন রাখতে চাচ্ছে এই বিষয়টা। সবাই সহজভাবে নিবে না আর এটা কোনো সহজ ব্যাপার ও না। নাফির কথা শুনে অনির বাবা-মা ভরসা পেলো। তারা খুব খুশি হলো। অনির মা বলেছিলো বাবা সারাজীবন তোমার সবকিছুর দায়িত্ব আমার। তখন নাফি বলেছিলো শুধু দোয়া করার দায়িত্ব নিতে পারেন,অন্যকিছুর নয়। নাফির প্রতিটা কথাতেই অনির বাবা-মা ভরসা খুঁজে পাচ্ছিলো।
অনির বিয়ে অথচ অনির সামনে এটা কেউ উচ্চারণ ও করেনা। গোপনে গোপনেই সব ব্যাবস্থা করা হচ্ছিলো। নাফির পরিবার ঘরোয়া ভাবে বিয়ে করাবে না তারা অনুষ্ঠান করেই বিয়ে করাবে। তাই অনির পরিবার কিছুটা বিপদের মধ্যেই আছে। অনির সাথে কথা বলতে চাইলো নাফি। সবাই অনুমতি দিলো কথা বলার জন্য। দেওয়টাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু অনি তো সহ্যই করতে পারে না কোনো ছেলে তার সাথে কথা বলবে। কথা বলতে রাজি হয়নি অনি। নাফি যেহেতু অনির সমস্যাটা জানে তাই আর নাফি জোর করেনি।
বিয়ের দুইদিন আগে অনি আবারও অসুস্থ হয়ে গেলো। সেই সেদিনের মতো রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অথচ সবাই অনেক সাবধানে ছিলো। বিয়ের ব্যাপারে কোনো কথা অনির সামনে বলেনি। অনির সামনে বলা আর জ্বীনকে বলা তো একই কথা। অনিকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলো। নাফির মা ফোন দিয়ে বললো গায়ে হলুদে আমাদের এখান থেকে ২০ জন যাবে আপনাদের ওখানে। এই কথা শুনে অনির মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। তারা যদি গায়ে হলুদেও আসে তাহলে অবশ্যই গায়ে হলুদের ও অনুষ্ঠান করতে হবে। অনির মা নাফি কে ফোন দিয়ে বললো এখন কি করা যায়। নাফি বললো আমি তো আমার সাধ্যমত চেষ্টা করছি সবকিছু যেনো ঠিকঠাক মতো হয়। কিন্তু পরিবারের বড় ছেলের বিয়ে সবাই তো আশা নিয়ে আছে তাই কিছু বলতে পারছি না আমি।
অনির মা কাঁদতে কাঁদতে তার ভাই কে বললো ভাই তুমি যদি বিয়ের আলাপ শুরু না করতা তাহলে আমার মেয়েটা মনে হয় ভালো থাকতো। আমার মেয়েকে কেউ করুনা করে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে এরচেয়ে বড় কষ্ট আর কি হতে পারে! তখন উনার ভাই ও চোখের পানি ফেলে বললেন আমাদের উপর এমন গজব কেন শুরু হলো আল্লাহ্ জানেন। যদি জানতাম এমন হবে তাহলে কোনোদিন দেশেই আসতে দিতাম না। অনির বাবা বলে ফেললো এত কষ্ট পাওয়ার চেয়ে মরে যাক আমার মেয়ে তবুও ভালো। এই দুনিয়ায় আমিই মনে হয় প্রথম বাবা যে কিনা নিজের মেয়ের মৃত্যু কামনা করছি। কোনো সমাধানই পাইনা কোথায় যাবো আমার মেয়েকে নিয়ে।
তখন অনির দাদী বললো তোরা চুপ থাক আমি দেখছি কি করা যায়। আমার কথা শুনলে এতদিনে অনি সুস্থ থাকতো। অনি কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বাসায় নেওয়ার পর হুজুর আনলো কবিরাজ ও আনলো। হুজুর জ্বীন হাজির করলো। তখন জ্বীনকে প্রশ্ন করলো তুমি কি চাও? সে উত্তর দিলো আমি অনিকে বিয়ে করতে চাই তাকে আমার ভালো লাগে। হুজুর বললো তুমি জ্বীন,সে মানুষ বিয়ে কিভাবে হবে? সে উত্তর দিলো বিয়ে না হোক আমি সবসময় তার সাথেই থাকবো। হুজুর জিজ্ঞেস করলো তুমি তাকেই কেন পছন্দ করলে? আর তাকে তুমি কোথায় পেলে? জ্বীন বলে তার চুল আমার খুব ভালো লেগেছে আত তার নীল ওরনা খুব ভালো লেগেছে আমার। আমি কোথায় পেয়েছি এটা বলবো না আমি তার সাথেই থাকবো। হুজুর বললো আচ্ছা তার সাথেই থাকো কিন্তু তাকে আঘাত করো কেন? জ্বীন উত্তর দিলো আমি তার বিয়ে হতে দিবো না তাই আঘাত করি। আমি মেরে ফেলবো তাকে। হুজুর বলে মারাচ্ছি তোকে দাঁড়া। তখন হুজুর কি কি যেনো করলো, করার পর জ্বীন অনেক জোরে চিৎকার করছিলো আর মাফ চাচ্ছিলো। হুজুর বললো তুই চলে যা। সে বললো চলে যাবো আর শাস্তি দিস না আর শাস্তি দিস না। হুজুর বললো সত্যিই যাবি তো? সে বললো হ্যাঁ চলে যাচ্ছি আমি।
তুই যে যাবি তার প্রমাণ কি? তুই যাওয়ার সময় ওই বড় গাছের ঢালটা ভেঙে যাবি তাহলে বুঝবো তুই চলে গেছিস।
তারপর জ্বীন যাওয়ার সময় ওই গাছের ঢাল ভেঙে দিয়ে গেলো।
তারপরেই অনি সেন্সলেস হয়ে গেলো। হুজুর বললো চিন্তার কোনো কারণ নেই এখন মাথায় তেল-পানি দেন একটু ঘুমাক। তারপর আপনারা বিয়ের আয়োজন করুন আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হবেনা আমার। আমি বাড়ি বন্দী করে দিচ্ছি। আর আপনারা সবসময় আয়তুল কূরসী পাঠ করবেন। বিয়েতে লাল,নীল শাড়ি পরাবেন না।
অবশেষে অনির বিয়ে হলো গোলাপি রঙ এর শাড়ি পরে। অনির বিয়েতে অনির কাজিনরা আসতে ভয় পাচ্ছিলো। যদি জ্বীনটা তাদের উপর ভর করে এই ভয়ে অনেকেই আসেনি। এতে অনি খুব কষ্ট পেয়েছিলো। বিয়ে বাড়ির সবাই খুশি থাকলেও ভয়ে ভয়েই ছিলো কখন কি হয়ে যায়। অনির কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিয়ের দিন হঠাৎ করেই অনির ভাই রিফাত অদ্ভুৎ আচরণ শুরু করলো। কেমন ঘাড় বাঁকা করে হাটছিলো কেমন চিৎকার করছিলো। অনির বাবা রিফাতকে একটা রুমের ভেতর রেখে দরজা বন্ধ করে দেয় যাতে বিয়েতে কোনো বাধা না আসে। অনি বারবার শুধু রিফাতকেই খুঁজছিলো। বিদায়ের সময় ও অনি রিফাতকে খুঁজছিলো আর অনির বাবা শুধু মিথ্যা বলছিলো যে রিফাতকে একটা কাজে পাঠিয়েছি। এভাবেই মিথ্যা বুঝ দিয়ে অনিকে বরের গাড়িতে উঠিয়ে দিলো। বিদায় বেলা কষ্টের হলেও অনির পরিবারের জন্য এটা ছিলো সবচেয়ে আনন্দের মূহুর্ত।
..................................................................................
অনির বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩ বছর হয়ে গেছে এখন তারা খুব সুখে আছে। অনির একটা ছেলে ও হয়েছে। নাফি সাহস করে বিয়ে করে ভুল করেনি। অনিকে নিয়ে নাফি খুব সুখেই আছে। এতোকিছু ঘটে গেলো নাফির পরিবার আজ পর্যন্ত কিছুই জানেনা। আর অনির বিয়ের পর থেকেই রিফাত আর স্বাভাবিক আচরণ করে না। কারো সাথেই ঠিকঠাক মতো কথা বলেনা। ছেলেটা যখন খায় তখন একটানা তাকিয়ে থেকেই ওকে মুখে খাবার দিতে দেখিনা। শুধু দেখি খাবার নাড়াচাড়া করছে। কিন্তু খাবার ঠিকই শেষ হয়ে যায়। এই বিষয়টা সবাই খেয়াল করে।
📒 মায়াবতীর ডায়েরি...
Sign up here with your email
ConversionConversion EmoticonEmoticon