ছোট বেলায় আমার আব্বারে দেখতাম ট্রেনের ছাদে চইরা ঢাকা যাইত। আমারে নিয়া গেলে আব্বা ট্রেনের ভিতরে টিকিট কাইটা নিয়া যাইত। আমি আব্বার কাছে খালি বায়না ধরতাম আমারেও ছাদে নিয়া যায়োনের জন্য।
একদিন আব্বা আমার আবদার রাখলেন। সেদিন ভোরে ট্রেন ছাড়ল। ট্রেনের ইঞ্জিন দিয়া আব্বা আমারে ছাদে তুইলা তারপর নিজে ছাদে উঠলো। আব্বা আমারে পিছন দিকের বগির ছাদে নিয়া গেলো, আমি সামনে থাকতে ছাইছিলাম, কিন্তু আব্বা কয় ধোয়া লাগে সামনে।
ট্রেন ছাড়োনের পর ১ ঘণ্টা ভালই গেল, তারপর আব্বা আমারে কইলো গুমাইতে, আমি ভয়ে না করলাম। আব্বা কইলো সে আমারে ধইরা থাকবো তাই ঘুম দিলাম একটা।
হুট কইরা আমার ঘুম ভাঙলো, তহন দেখি আমি ট্রেনের ছাদ থেইকা ঝুলতাসি আর আব্বা আমার হাত ধইরা উঠানোর চেষ্টা করতাসে, ট্রেন অনেক নরতে ছিল জন্যে আমারে উঠাইতে আব্বার কষ্ট হইতে ছিল। আব্বা আমারে উপরে উঠাইয়া দাড়াইতেই একটা বাশের সাথে বারি খায়া নিচে পইরা গেলো। আমি খালি দেখলাম আমার আব্বা নিচে পইড়া গরায়া অনেক দূর চইলা গেলো। তহনো বুঝি নাই আমার আব্বা মারা গেসে।
আমি ওই ট্রেনে ঢাকা আইলাম, আবার ওই ট্রেনেই বাড়ি গেলাম এক লোকের সাথে। বাড়ি গিয়া আম্মারে জিগাইলাম আব্বা কই? আম্মা কোন কথা কইলো না।
আমার ছোট বোন কইলো আব্বা মইরা গেসে। মসজিদের পাশের কবর স্থানে হেরে কবর দিসে।
আমার আম্মা তার পরে কোনদিন আমার সাথে কথা কয় নাই। সেইদিন থেইকা আমি আমার আব্বা-আম্মা দুইজনরেই হারাই। আমি এহন সবসময়ই ট্রেনের ছাদে চইরা ঢাকা যাই। কারণ ট্রেনের ছাদ আমারে আমার আব্বার কথা মনে করায় দেয়। হয়তো কোনদিন আমিও আব্বার মতো কইরা চইলা যামু।
Sign up here with your email

ConversionConversion EmoticonEmoticon